সব
facebook apsnews24.com
এক নজরে জেনে নিন গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির সম্পর্কে – SundarganjNews.Com

এক নজরে জেনে নিন গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির সম্পর্কে

এক নজরে জেনে নিন গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির সম্পর্কে

গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ:
বর্তমান গোবিন্দগঞ্জ শহরের পূর্ব নাম ছিল গোলাপবাগ কথিত আছে গোলাপবাগ শহর গড়ার পূর্বে সেখানে বিশাল একটি গোলাপ বাগান ছিল সেখান থেকে নাম হয় গোলাপবাগ শহর; কিন্তু থানার নাম গোবিন্দগঞ্জ হওয়ায় আজ গোলাপবাগ নাম বিলুপ্তের পথে বর্তমান গোবিন্দগন্জ শহর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নামে সুপরিচিত।

গোবিন্দগঞ্জ নামটি কোথা থেকে আসল: হ্যাঁ গোবিন্দগঞ্জ নামকরণ নিয়ে ইতিহাসবীদদের বিভিন্ন মতপার্থক্য রয়েছে অনেকের ধারণা

হিন্দু জমিদার গোবিন্দের নামে গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ:
বর্তমান পুরাতন বন্দর নামে পরিচিত স্থানে গোবিন্দ নামে প্রভাবশালী এক হিন্দু জমিদার বাস করত তার নামানুসারে ১৭৯৩ সালে গোবিন্দগনজ থানা প্রতিষ্টা হয়। এমন ধারণা করেন অনেক ইতিহাস অনুসন্ধানকারীরা।
( জানা যায়, ইংরেজ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টিংস তার শাসনামলে রংপুর জেলা কালেক্টরেটের আওতায় ১৭৯৩ সালে ২৪টি থানা প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমান গাইবান্ধা এলাকায় সে সময় ৩টি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩২৭ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা এবং ১৮৮ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে সাদুল্লাপুর থানা গঠিত হয়। দু’টি থানাই প্রতিষ্ঠিত হয় ইদ্রাকপুর অপর থানাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে পাতিলাদহ পরগনায় ৯৩ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে, ভবানীগঞ্জ মৌজায় ভবানীগঞ্জ থানা নামে। রংপুরের কালেক্টর ই-জি গেজিয়ার এর ১৮৭৩ সালের রিপোর্টে এই তথ্য উল্লেখিত হয়েছে।)

তবুও ইতিহাসের বিভিন্ন উৎস থেকে গোবিন্দগঞ্জ নামকরণের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসে–
পৌন্ড্রবর্ধন রাজা গোবিন্দের নামে গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ:-
সাঁওতালী গ্রন্থ সত্যংশিবং সনাতন পুরাণে গোবিন্দগঞ্জের পাশ্ববর্তী প্রাচীণ পৌন্ড্রবর্ধন রাজ্যে ১০ জন রাজা স্বাধীন ভাবে রাজত্ব করছিল বলে উল্লেখ আছে। তাদের মধ্যে রাজা গোবিন্দ নামের একজন রাজা ছিল। জনশ্রুতি আছে তার নামেই গোবিন্দগঞ্জ নামকরণ হয়েছে। যদিও এই জনশ্রুতি কে মেনে নেয়া কঠিন।

কারণ, জনশ্রুত রাজা গোবিন্দ ঐতিহাসিক কি না তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের সন্দেহ আছে।

গোবিন্দ মন্দির, চক গোবিন্দ ও গোবিন্দপুর মৌজার নামের সাথে গন্জ যুক্ত হয়ে গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ:-

বর্তমান পৌর শহরে পুরাতন গোবিন্দগঞ্জ নামে খ্যাত এলাকার মৌজার নাম গোবিন্দপুর ও চক গোবিন্দ। চক গোবিন্দ মৌজায় মুঘল আমলের পূর্বে নির্মিত বিখ্যাত গোবিন্দ মন্দির ছিল। সেই মন্দিরে প্রতিদিন বিগ্রহ দর্শন ও পুজা দেয়ার জন্য শত শত লোক আসতো। কালক্রমেই এই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই গোবিন্দগঞ্জ নামকরণ করা হয় বলে অনেকেই ধারণা করেন।

গোবিন্দগঞ্জ কৃষি শষ্যে প্রাচীনকাল থেকেই প্রসিদ্ধ ছিল। বর্তমানে মৃত করতোয়া প্রাচীনকালে প্রমত্ব করতোয়া ছিল। পুরাতন বন্দর এলাকায় এই করতোয়া নদীর তীরে মুঘল আমলে বিশাল বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠে। মুসলিমরা ভারত বর্ষে আগমনের পর ভারতে আরবি ও ফার্সী শব্দের ব্যবহার শুরু হয়।

গঞ্জ একটি ফার্সী শব্দ। হাট, বাজার, গোলা, বন্দর, শষ্য ক্রয় কেন্দ্র প্রভৃতি নামে গঞ্জ শব্দটি ব্যবহার হয়। গোবিন্দগঞ্জ নামের সাথে গঞ্জ যুক্ত থাকায় মুঘল আমলের বানিজ্য কেন্দ্র স্থলের দুটি মৌজার নাম চক গোবিন্দ ও গোবিন্দপুর এর গোবিন্দ এর সাথে গঞ্জ যুক্ত হয়েই গোবিন্দগঞ্জ নামকরণ হয় বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন।

গোবিন্দগঞ্জের অপর নাম গোলাপবাগ নাম নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের থানা মোড় চার মাথা থেকে দক্ষিণ পশ্চিম এলাকা গোলাপবাগ নামে পরিচিত। বৃটিশ শাসন কালে বর্ধনকোটের জমিদার শ্যামকিশোর বর্তমান বাজার এলাকায় একটি বিশাল গোলাপ বাগান তৈরি করেন। সেই গোলাপ বাগান কালক্রমে গোলাপবাগ নাম ধারণ করেছে। গোবিন্দগঞ্জ নামকরণের নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও গোবিন্দগঞ্জ ইতিহাস: অতীত ও বর্তমান গ্রন্থের লেখক গোপাল সরকারের মতে গোবিন্দ মন্দির থেকেই গোবিন্দগঞ্জ নামকরণ হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

গোবিন্দগঞ্জের অনেক গুনীজন ও বয়জ্যেষ্ঠ্যরা গোপাল সরকারের মতের সমর্থনে মনে করেন, ইতিহাস অনুসন্ধানকারী লেখক, শিক্ষক ও পত্রিকা সম্পাদক মোস্তফা কামাল সুমনও এ মতবাদে বিশ্বাসী। প্রাচীন গোবিন্দ মন্দির থেকে চক গোবিন্দ ও গোবিন্দপুর নামের দুটি মৌজার নাম হয়। পরবর্তীতে মুসলিম শাসকগণ ভারত বর্ষে আগমনের পরে বিধৌত করতোয়া নদীর যেখানে বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলে সেই মৌজা চক গোবিন্দ ও গোবিন্দপুর নামের গোবিন্দ এর সাথে গঞ্জ যুক্ত হয়েই গোবিন্দগঞ্জ নামের সৃষ্টি হয়।

১৭৯৩ সালে ৩২৭ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে গঠিত থানা ১৯৮১ সালে এসে ১৭৬ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে পলাশবাড়ী ও সাঘাটা পৃথক হয়ে যাওয়ায় বর্তমান রুপে অবস্থিত। ১৯০৩ সালে সাঘাটা ও ১৯১৯ সালে পলাশবাড়ী থানা গঠনের আগ পর্যন্ত এই দুই থানা গোবিন্দগঞ্জ থানার এলাকার সাথেই যুক্ত ছিল।

গোবিন্দগঞ্জের অবস্থান:-
গোবিন্দগঞ্জ গাইবান্ধা জেলার অন্তর্ভূক্ত একটি উপজেলা এ উপজেলার সীমানা পূর্বে-সাঘাটা উপজেলা,পশ্চিমে-জয়পুরহাট জেলা উত্তরে-পলাশবাড়ী উপজেলা , দক্ষিণে-বগুড়া জেলা

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আয়তনঃ-
এ উপজেলার মোট আয়তন ৪৬০.৪২ বর্গ কি. তার মধ্যে উপজেলা সদরের আয়তন ১৪.৭৩ বর্গ কি.মি.

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জনসংখ্যাঃ-
২০০১ সালের আদমশুমারীর হিসাব অনুযায়ী এ উপজেলার লোকসংখ্যা ৪,৬১,৪২৮ ক) পুরুষ ২,৩৫,৬২২ খ) মহিলা ২,২৫,৮০৬ তবে বর্তমান লোকসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।এ উপজেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯৫৮ জন ( প্রতি বর্গ কিঃ মিটারে)

শিল্প প্রতিষ্ঠান ও হিমাগার:- এ উপজেলায় গ্যাস না থাকায় তেমন কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি তবে এ উপজেলায় উল্লেখ্যযোগ্য দুটি শিল্প রয়েছে সেটা হল
রংপুর সুগার মিলস লি. মহিমাগঞ্জ
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে এই শিল্প কমপ্লেক্সটি অবস্থিত।

ইতিহাস:-
১৯৫৪ সালে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে১৯৫৭ সালে সমাপ্ত হয় এবং ১৯৫৭-৫৮ সাল থেকে এটিতে চিনি উৎপাদন শুরু হয়।[৪] স্বাধীনতা লাভের পর, ১৯৭২সালে বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে।

অবকাঠামো:-
এই বৃহদায়তন শিল্প-কমপ্লেক্সটি চিনি কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও জৈব সারকারখানা এবং অফিস ও আবাসন ভাবনের সমন্বয়ে গঠিত।

উৎপাদন ক্ষমতা:-
এই মিলের দৈনিক আখ মাড়াই করার ক্ষমতা ১,৫০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদনের ক্ষমতা ১৫,০০০ মেট্রিক টন।
উৎপাদিত পণ্য:-
চিনি।এছাড়াও চিটাগুড়, ব্যাগাস ও প্রেসমাড অন্যতম উপজাত-দ্রব্য।
আরও আছে কোচাশহর ইউনিয়নের হোসিয়ারি শিল্প(শীতবস্ত্র শিল্প) এছাড়া আলু ও অন্যান্য বীজ সংরক্ষণের জন্য দুটি ব্যাক্তিমালিকানায় হিমাগার রয়েছে একটি হল ক) গোবিন্দগঞ্জ কোল্ড ষ্টোরেজ হিমাদ্রি লিমিটেড। অপরটি খ)গোবিন্দগঞ্জ কোল্ড ষ্টোরেজ।

নিরাপত্তা ও পুলিশ সার্ভিস:-
এ উপজেলার জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে একটি পুলিশ স্টেশন,একটি হাইওয়ে থানা এবং একটি তদন্ত কেন্দ্র।জরুরী সহায়তা প্রদানের জন্য রয়েছে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ও প্রস্তুত ফায়ার সার্ভিস টিম।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব :-
জেলা সদর হতে এ উপজেলা সদরের দূরত্ব ৩৮ কি.মি.
বিভাগ শহর রংপুর হতে এ উপজেলার দূরত্ব ৭২ কি.মি
রাজধানী হতে ১৭০ কি.মি।

উপজেলা প্রশাসনিক ভবন:-
এ উপজেলায় ১৯ মার্চ ১৯৮৯ সালে নির্মিত একটি উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয় রয়েছে।

ভূমিরূপ ও নদনদী:-
এ উপজেলার ভূমিরুপ পলি ও বরেন্দ্র। নদনদীর মধ্যে করতোয়া ও বাঙ্গালী নদী।এছাড়া ছোট ছোট অনেক বিল রয়েছে।

সংসদীয় আসন:-
এ উপজেলা বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩২ নং গাইবান্ধার -৪ নং আসন এবং উপজেলার এন ডব্লিউডি কোড নং ০৫৪২৩
গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসনে স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত এমপিদের নামের তালিকা নিম্নে দেওয়া হল:-
(১) প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি :
স্বাধীন বাংলায় ১৯৭৩ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন ৩১ (রংপুর -২১) এ এমপি নির্বাচিত হন শাহ জাহাঙ্গীর কবীর এমএ, এলএলবি।
২)দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন ৩৩(রংপুর-২২) এ এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মিয়া।

৩)তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসান (৩২ গাইবান্ধা-৪) এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ লুৎফর রহমান চৌধুরী।

৪)চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ মির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন (৩২ গাইবান্ধা -৪) এ এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আতাউর রহমান বেলাল।

৫)পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন (৩২ গাইবান্ধা -৪) পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ লুৎফর রহমান চৌধুরী।

৬)ষষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত স্বল্পকালীন স্থায়ী ষষ্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় (আসন ৩২ গাইবান্ধা-৪) মোঃ আব্দুল মান্নান মন্ডল জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন (৩২ গাইবান্ধা-৪) এ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হন।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন (৩২ গাইবান্ধা-৪) এ মোঃ আব্দুল মোত্তালিব আকন্দ এমপি নির্বাচিত হন।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচেন গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন (৩২ গাইবান্ধা-৪) এ এমপি নির্বাচিত হন মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জ সংসদীয় আসন (৩২ গাইবান্ধা-৪) এ আবুল কালাম আজাদ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

উপনির্বাচনে গোবিন্দগঞ্জের এমপি:-
এছাড়া অষ্টম সংসদের এমপি আব্দুল মোত্তালিব আকন্দের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে শামীম কায়সার লিংকন এমপি নির্বাচিত হন।

জনসাধারণের যোগাযোগ:-
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের ফোন ও ফ্যাক্স নম্বর ০৫৪২৩-৭৫০০১(অফিস),০৫৪২৩-৭৫০২২(বাসা)০৫৪২৩-৭৫০২৪(ফ্যাক্স),মোবাঃ ০১৭৬২-৬৯৫০৭২

২০.ঐতিহাসিক/দর্শনীয় স্থান রাজা বিরাট , প্রাচীন মাস্তা মসজিদ ও বর্ধনকুটি

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গ্রাম,ঘরবাড়ী ও মৌজা সংখ্যা:-
এ উপজেলায় ৩৭৫ টি গ্রাম ও মোট ১,০৭,৮৭৮ টি ঘরবাড়ী ৩৩৬ টি মৌজা রয়েছে।(২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী )

ইউনিয়নের পরিষদ:-
এ উপজেলায় ১৭ ইউনিয়ন ও ইউনিয়নগুলোর ১৫৩ টি ওয়ার্ড রয়েছে।ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে ১৪ টি এ উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ইউপি কমপ্লেক্স ভবন রয়েছে ১১ টি। ৬টি ভাড়া বাসায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্কক্রম পরিচালনা করছে।

পৌরসভা:-
এ উপজেলায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা নামে ১ টি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার রয়েছে এবং এ পৌরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা-০৯।

ব্যাংক ও বীমা ও এনজিও:- এ উপজেলায় বাণিজ্যিক/তপসিলী ব্যাংক শাখা- ১৯টি এবং বীমা সংখ্যা-১৪ টি এবং কর্মরত এনজিও সংখ্যা ৪০টি।

বিনোদন ও নৃত্যচর্চা:-
এ উপজেলায় বিনোদনের জন্য ০১টি সিনেমা হল ও নিত্য সাংস্কৃতি চর্চার জন্য ০৩ টি শিল্পী ও নিত্য চর্চা নিকেতন রয়েছে।
উপজেলার চিকিৎসা সেবা:-
এ উপজেলার জনসাধারণের চিকিৎসা সেবার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল রয়েছে ০১ টি ( ৫০ শয্যা ) উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে ১০টি।এছাড়া গ্রামীণ মাতৃ ও সাধারণ স্বাস্থ্য সেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।

হাসপাতালে ডাক্তারের অনুমোদিত পদ ৩৮, উপজেলা হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা ০২ উপজেলায় ইপিআই কাভারেজ ৯৩% জন্ম নিয়ন্ত্রণ কাভারেজ ৬৮% উপজেলায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার ৭৬% উপজেলা হাসপাতালে আই এম সি আই চালু হয়েছে চালু আছে উপজেলা হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন ০১।

খসা ও আবাদি জমি:-
এ উপজেলায় ১২০৫.০৫ একর খাস জমি রয়েছে।
আবাদি জমির পরিমান ৩৭০০০ হেক্টর এক ফসলী জমির পরিমান ১৮১৫ হেক্টর দো- ফসলী জমির পরিমান ২২৫৭০ হেক্টর তিন ফসলী জমির পরিমান ১১৩৬৫ হেক্টর চার ফসলী জমির পরিমান ১০৫০ হেক্টর।অর্থকরী ফসল ১৫০০ হেক্টর

হাট-বাজার:
এ উপজেলায় সরকারী হাট-বাজারের সংখ্যা ২১
এর মধ্যে প্রধান প্রধান হাট বাজার গোলাপবাগ, কামদিয়া,কাটাবাড়ী ,কোমরপুর , কাটাখালী বালুয়া ,ফাঁসিতলা, মহিমাগঞ্জ হাট-বাজার

প্রাণী চিকিৎসা
এ উপজেলায় সরকারী প্রাণিসম্পদ দপ্তর রয়েছে -০১টি এবং ইউনিয়ন প্রাণি চিকিৎসা উপ-কেন্দ্র রয়েছে ০৩টি

পানিপান:-
এ উপজেলার জণসাধারণ স্যানিটেশন কাভারেজে ৯৫%৪৮.নলকূপের পানি পান করে ১০০%

যোগাযোগ ও রাস্তাঘাট:-
এ উপজেলার বুক চিরে গেছে ঢাকা রংপুর মহাসড়ক এছাড়া এ উপজেলার মোট রাস্তার পরিমান ১১৩৬ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ৯০৬ কি.মি. পাকা রাস্তা ২৪০ কি.মি. ব্রীজ/কালভার্ট ১৩৭৫ টি এইচবিবি রাস্তা ১৩ কি.মি. সিসি রাস্তা ০২ কি.মি.
এছাড়া এ উপজেলার জনগণের যোগাযোগের জন্য ডাকঘর রয়েছে ২৬ টি,টি এন টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ রয়েছে ০১ টি ও রেল স্টেশন রয়েছে ০১টি।এছাড়া অন্যান্য জেলার সাথে করতোয়া নদীপথে যোগাযোগ করা যায়।

গোবিন্দগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থান সমূহের বিবরণ:-

#বর্ধনকুঠি:
গাইবান্ধা জেলার অন্যতম একটি ঐতিহাসিক স্থানের নাম বর্ধন কুঠি।ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজা হরিনাথ এ বর্ধনকুঠি শাসন করেছিলেন। তবে, ভারতীয় উপমহাদেশের বিভক্তির সময় বর্ধন কুঠির সর্বশেষ শাসক রাজা শৈলেশ চন্দ্র বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাড়ি জমান।

এই স্থানে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে শুধুমাত্র বর্ধনকুঠির অবশিষ্ঠ্যাংশ চোখে পড়ে। তবে, ব্যাপক গবেষণা পরিচালনা করা হলে বর্ধনকুঠির জমিদারদের সম্পর্কে এবং তাঁদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে ছাড়াও এখানকার গৌরবময় ইতিহাসের আরো নিদর্শন আবিষ্কার করা সম্ভব হবে।

সুদূর প্রাচীন কাল থেকে (বর্তমান) গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাধীন বর্ধন কুঠি তৎকালীন রাজা বাদশাদের গূরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ইউনিট ছিল। ষোড়শ শতাব্দীর শুরুতে রাজা রামপাল এখানে বাসুদেব মন্দির নির্মাণ করেন। তখন রাজা মানসিংহ বাংলার সুবাদার ছিলেন। ইংরেজ আমলে তা জমিদার বাড়ী হিসেবে খ্যাতি পায়।পুরাকালে পুন্ড্র বধন, মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালের বরেন্দ্র এবং আজকের বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ বর্তমানে তার প্রাচীন এতিহ্যের অনেক কিছু হারাতে বসেছে।

নজির হিসেবে বর্ধন কুঠি অন্যতম । বিধ্বস্ত রাজবাড়ীর উন্মুক্ত অংশের বিভিন্ন রকমের সুসজ্জিত ছায়ঘন কৃক্ষ, ফাকে ফাকে শিল্পীর নিপুল হস্তে গড়া এককালের ক্ষষিষ্ণু দালানকোঠা আর তার অংশ বিশেষে গড়ে উঠা গোবিন্দগঞ্জ কলেজ আজও বর্ধন কুঠির স্বৃতিচিহ্ন বক্ষে ধারন করে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে।নামকরণঃ অনেকে ধারণা , গোবিন্দগঞ্জ সদরে অবস্থিত বর্ধন কুঠি প্রাচীন বর্ধন কোট নামে পরিচিত ছিল।

কোন সূত্রে ধরে এই স্থানের নাম বর্ধন কোট বা কাল ক্রমে বর্ধন কুঠি হয়েছে, তার গুরুত্ব উদঘটন করা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অনেকটা দুরুহ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রাচীনকালে এ স্থানে বর্ধন নামে একজন শক্থিধর নরপতি ছিলেন তার নামানুসারে এ স্থানের নাম হয়েছে বর্ধনকোট, যা কাল ক্রমে বর্ধনকুঠিতে রুপ নিয়েছে।

নামকরণর ক্ষেত্রে অনেকে একথাও মনে করেন, বর্তমানে যে, স্থানটি বর্ধনকুটি নামে পরিচিত সেই স্থানটি শক্তিদর বর্ধন বংশীয় কোন এক উত্তরসুরী এসে (পরবর্তীতে) স্থায়ী বসতি গড়েন, তখন তাদের বংশীয় নামের সূত্র ধরে বর্ধন কোট বা বর্ধন কুঠি নামে সৃষ্টি হয়।রাজা শৈলেশ চন্দ্রের নাতি জনার সঞ্জীব রায় ও তাঁর পরিবার বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বাংলার হুগলিতে থাকেন।ঠিকানাঃ ৩২, কেওটা লাটবাগান,পোস্ট অফিসঃ সাহাগঞ্জ, জেলাঃ হুগলি পশ্চিমবাংলা।

#রাজা বিরাটঃ-
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজা বিরাটের বিরাট নগরীর প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন। অন্যদিকে একটি চক্র রাজা বিরাটের ঐতিহাসিক স্থাবর-অস্থাবর স্থাপনাসমূহ দখল করছে। অথচ রাজা বিরাট আজও স্বনামধন্য ও বাত্সরিক তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সকল জেলাসহ সারাদেশ থেকে প্রতিবছর বৈশাখ মাসব্যাপী রাজা বিরাটের তীর্থ মেলায় হিন্দুধর্মের হাজার হাজার লোকজনের সমাগম হয়।তবে এটা এখন ধ্বংশের দ্বারপ্রান্ত ও সংরক্ষণের উদ্যেগ নেওয়া হয়নি এতে করে ঐতিহাসিক মত্স্য দেশের রাজধানী ও সনাতন (হিন্দু) সমপ্রদায়ের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র “রাজা বিরাট” একসময় শুধু কাগজ-কলমেই রয়ে যাবে।

কিংবদন্তী আছে, হিন্দু পৌরাণিক উপাখ্যান মহাভারতের বর্ণনায় যে রাজা বিরাটের নাম উল্লেখ রয়েছে গোবিন্দগঞ্জের বিরাটই সেই নানা উপাখ্যানের সাক্ষী। পৌরাণিক কাহিনী মতে গাইবান্ধার রাজা বিরাট নেপাল রাজ্যের বৈরাট নগরাধিপতি মহারাজ উত্তরের একমাত্র পুত্র ছিলেন। তিনি মৃগয়ার্থে বৈরাট নগর হতে আলোচ্য বিরাটে আগমন করেন। এই বিরাট বনের এক উচ্চ ভূমিতে রাজবাড়ী ও নগর স্থাপন করেন।

মহাভারতে বিরাট রাজাকে বিরাট নামেই অভিহিত করা হয়। তিনি তার রাজ্যে হাজার হাজার দীঘি-পুষ্করিনী খনন করে মত্স্য চাষ করে ‘মত্স্যরাজ বিরাট’ নামে খ্যাত হয়েছিলেন। ঐতিহাসিকদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, উত্তর ও পূর্ব বাংলায় পালরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবার সময়েই অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগে (৭৪৩-৮০০ খ্রী.) দক্ষিণ পূর্ব বাংলার সমতটে দেববংশ নামে একটি রাজবংশ প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করতেন।

রাজা বিরাট এই দেববংশ ও পুন্ডনগরের আওতাভুক্ত। সর্ত্য শিবং পুরাণে রাজা বিরাটের গোশালা-‘গাইবান্ধা’, অশ্বশালা-‘ঘোড়াঘাট’ ও হাতীশালা-‘হাতিবান্ধা’ নামে খ্যাত ছিল। সর্ত্য শিবং সনাতনে আরো আছে যে, রাজা বিরাটের শ্বশুরালয়ের নাম “একশত পঞ্চভবন” ও শাশুড়ীর নাম ছিল ‘সুদেষ্ণা”। মহাভারতের বর্ণনামতে গান্ধারীর শত পুত্র কুরুদের সাথে কুন্তিদেবীর ৫ পুত্র পঞ্চপাণ্ডব পাশা খেলায় হেরে গেলে পঞ্চপাণ্ডবকে ১২ বছরের বনবাস ও ১ বছর অজ্ঞাতবাসে পাঠানো হয়। এসময় তারা ঘুরতে ঘুরতে পঞ্চাল রাজ্যে পৌঁছে শূন্য চক্রের কনকের মত্স্য ছেদন করে পঞ্চাল রাজা দ্রৌপদের কন্যা দ্রৌপদীকে বিয়ে করেন। নববিবাহিত দ্রৌপদীকে নিয়ে তারা ঘুরেও বেড়ান। পৌরাণিক যুগে কুরুক্ষেত্রের পাণ্ডবদের যুদ্ধ হয় এখানে। এই যুদ্ধেই রাজা বিরাট নিহত হলে রাজধানী অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

কালক্রমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় বিরাট নগরী ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়। যার স্মৃতিচিহ্ন আজও কিছু কিছু বিদ্যমান। এখানে ১৯৭৮ সালে পাওয়া যায় সংস্কৃত অক্ষরে খোদাই করে ‘নম: নম: বিরাট’ লেখা ৯ ইঞ্চি দীর্ঘ মহামূল্যবান একটি শিলালিপি। যা মহাস্থান যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া কৃষ্ণ রঙের শিলা পাথর দ্বারা তৈরি হস্তি মস্তকটি রাজশাহী যাদুঘরে ও সিংহদ্বারের একটি পাথরের খাম্বা মহাস্থান যাদুঘরে রয়েছে। তাছাড়া প্রায় ৫ টন ওজনের একজোড়া পাথরের কপাট যুগ যুগ ধরে পতিত অবস্থায় ছিল। যা পরবর্তীতে খণ্ড খণ্ড করে গ্রামবাসীরা নিয়ে গেছে।

#প্রাচীন মাস্তা মসজিদ :-
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ০৩ কি.মি. দক্ষিণে এবং কামারদহ ইউনিয়নের ফাঁসিতলা বাজার হতে ০১ কি.মি. উত্তরে মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে মাস্তা মসজিদ অবস্থিত । যে কোন যানবাহন ব্যবহার করে মাস্তা মসজিদে যাওয়া যায় । গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় পুরাতন মসজিদ গুলোর মধ্যে প্রাচীন মাস্তা মসজিদ স্থাপত্যের অপর একটি নিদর্শন । কামারদহ ইউনিয়নের মাস্তা গ্রামের প্রাচীন লাল মসজিদটিই ‘মাস্তা মসজিদ’ নামে পরিচিত । মসজিদ এলাকার জনশ্রুতি মতে এককালে এ এলাকায় বাদশা ফকির নামে একজন প্রভাবশালী ও ধর্মপরায়ন ব্যক্তির বাস ছিল । তিনি এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন । তাঁর ও তাঁর উত্তারসুরীর আসল পরিচয় আজও মেলেনি । প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কোন সময় নির্মিত হয়েছে তা কোন সূত্র থেকেই আজও জানা যায়নি । তবে মসজিদের নির্মাণ কৌশল ও মোঘল আমলের মসজিদ স্থাপত্যের বৈশিষ্ঠ্যের সূত্র ধরে অনুমান করা যায় মাস্তা মসজিদটি মোঘল আমলের কোন এক সময় নির্মিত হয়েছিল । মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৫ ফুট এবং প্রস্ত ১৬ ফুট । চার কোণে চারটি স্তম্ভ রয়েছে । একই আকারের তিনটি গম্বুজ আছে । দরজা তিনটি । কোন জানালা নেই। ভিতরে দুই সারিতে নামাজ আদায় হয়ে থাকে ।

স্বাধীনতা যুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জবাসীর অবদান:
উল্লেখ্য:১৯৭১ সালের যুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জবাসীর অবদান অপরিসীম, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাত থেকে যখন পাকিস্তানী নরপশুরা নিরীহ বাঙ্গলীর উপর অতর্কীত আক্রমণ চালায়,তখন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের দামাল ছেলেরা পাকবাহিনীর উত্তর অঞ্চলের সাথে চলাচল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার লক্ষে, খাটাখালী ব্রীজ ভেঙ্গে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় ।
যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ, শত শত গোবিন্দগঞ্জের দামাল ছেলেরা ব্রীজটি ভাঙ্গতে অংশ নিয়েছিল।
তবে ব্রীজটি ভাঙ্গা শেষ না হতেই, পাকিস্তানী নরপশুরা এসে হাজির হয়েছিল এবং অতর্কিত গুলিকরা শুরু করেছিল।
এতে পাকিস্তানী নরপশুদের গুলিতে কাটাখালী প্রান্তেই প্রাণ হারায় বাবু,বাবলু ও মান্নান সহ অনেকেই
এছাড়া স্বাধিনতা যুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জবাসীর আরও বিশাল ভুমিকা ছিল সেটি ছোট করে দেখা যায়না। এখানে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তি যুদ্ধের সংগঠক ছিলেন এদের মধ্যে প্রয়াত জামালুর রহমান, শাহ জাহাঙ্গীর কবির ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

উল্লেখ্য :-এ তথ্য বিভিন্ন ইতিহাস ভিত্তিক বই,বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে লিখেছেন -শামীমা ইসলাম সুমী এবং এ আর্টিকেলটি এর আগেও প্রচার করা হয়েছিল এবার দ্বিতীয় ধাপে প্রচার করা হল।

#গাইবান্ধার খবরা-খবর

আপনার মতামত লিখুন :

আয়েশা সিদ্দিকা’র কবিতা “প্রশান্তির খোঁজে”

আয়েশা সিদ্দিকা’র কবিতা “প্রশান্তির খোঁজে”

আয়েশা সিদ্দিকা’র কবিতা “তুমি নেই তাই……”

আয়েশা সিদ্দিকা’র কবিতা “তুমি নেই তাই……”

সুন্দরগঞ্জে উত্তরণ পাঠাগার এর আলোচনা সভা, সম্মাননা স্মারক প্রদান ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ||

সুন্দরগঞ্জে উত্তরণ পাঠাগার এর আলোচনা সভা, সম্মাননা স্মারক প্রদান ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ||

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড

গাইবান্ধায় মাদক মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড

এক নজরে জেনে নিন গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির সম্পর্কে

এক নজরে জেনে নিন গোবিন্দগঞ্জের নামকরণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির সম্পর্কে

ছড়া ঝড়ী আইলো-মোঃমনোয়ারুল ইসলাম মনা

ছড়া ঝড়ী আইলো-মোঃমনোয়ারুল ইসলাম মনা

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
সুন্দরগঞ্জ পেইজ কর্তৃক পরিচালিত একটি নিউজ ওয়েব সাইট
সম্পাদক : মোঃ জুয়েল রানা
বার্তা সম্পাদক : নুরুন্নবী সবুজ
সাহিত্য সম্পাদক : মোঃ জিল্লুর রহমান জীম
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : হাসপাতাল রোড, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা।
ফোনঃ ০১৪০২-৮৯২২২৩
ই-মেইল : sundarganj.page5720@gmail.com
© ২০২০-২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । সুন্দরগঞ্জনিউজ.কম
Design & Developed By: ITPolly.Com

ব্রেকিং নিউজ